মুভি রিভিউ

চল পালাই | ‘রোড’ ছবির বাংলা সংস্করণ

শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ | ৩:৫২ অপরাহ্ণ | 441 বার

'চল পালাই' ছবির ট্রেলার

পরিচালনা: দেবাশীষ বিশ্বাস

অভিনয়ে: শিপন, তমা মির্জা, শাহরিয়াজ, সাদেক বাচ্চু, রেবেকা, শামীম, চিকন আলী, বড় দা মিঠু, জাদু আজাদ, শিমুল খান

রেটিং: ২/ ৫

চেনা জানা গল্পে আমার কখনোই অভক্তি নেই। নির্মাণশৈলী, গান কিংবা অভিনয়ে মুগ্ধ হলে একটি ছবি ৬০/৭০/৮০ বার দেখারও রেকর্ড আছে আমার। কেয়ামত থেকে কেয়ামত, আমার ঘর আমার বেহেশত, স্বজন দেখবার আগেও জানতাম ছবিগুলো কোন কোন হিন্দি ছবির কপিরাইট নিয়ে এসে নির্মিত। যেমনটি ‘চল পালাই’ প্রসঙ্গে জেনেছিলাম এটি ২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া হিন্দি ছবি ‘রোড’-এর বাংলা সংস্করণ। এ ক্ষেত্রে ‘রোড’ ছবির প্রযোজক রামগোপাল ভার্মার কাছ থেকে নির্মাতা অনুমতি নিয়েছিলেন কিনা জানা নেই। অবশ্য রামগোপাল ভার্মারাও কিন্তু মূল গল্পকারের অনুমতি না নিয়েই হিন্দি ছবিটি নির্মাণ করেছিলেন। রিচার্ড ম্যথসনের লেখা ‘ডুয়েল’ উপন্যাসের ছায়া অবলম্বনে ১৯৭১ সালে বিশ্বখ্যাত নির্মাতা স্টিভেন স্পিলবার্গ তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘ডুয়েল’ নির্মাণ করেছিলেন। সে চলচ্চিত্রের নির্যাস নিয়েই বলিউডে ৩১ বছর পর নির্মিত হয়েছিল ‘রোড’। ‘রোড’এর ছায়া অবলম্বনে আবার বাংলাদেশে ২০০৪ সালে ফিরোজ খান প্রিন্স চিত্রনায়ক রুবেলকে নিয়ে নির্মাণ করেছিলেন ‘প্রেমিকা ছিনতাই’। অর্থাৎ প্রতিটি ছবিই ছিল একটি আরেকটি ছবির ছায়া। কিন্তু ‘চল পালাই’ শুধু ছায়া নয়, রজনীশ ঠাকুরের লেখা ‘রোড’ ছবির আলো-বাতাস-মাটি অর্থাৎ কাহিনি, চিত্রনাট্য, সংলাপ সবকিছুই বঙ্গানুবাদ করে আমাদের সামনে পেশ করা হয়েছে। নির্মাতাকে এ ক্ষেত্রে একটি বিষয়ে কৃতিত্ব দিতেই হয়, অনেকে যখন নকল করেও বুক চিতিয়ে মিথ্যের আশ্রয় নেন, পরিচালক দেবাশীষ বিশ্বাস সেখানে ছবির শুরুতেই রজনীশ ঠাকুরের নাম কাহিনিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তার সততাকে সাধুবাদ জানাতেই হয়।

তবে সাথে এটাও জানতে ইচ্ছে হয়, রজনীশ ঠাকুর কি এই স্বীকৃতির কথা জানেন? যদি জেনে থাকেন, আমার মনে হয় তিনি চিত্রনাট্যকার ও সংলাপ রচয়িতা হিসেবেও কৃতিত্ব দাবী করবেন। কারণ ‘চল পালাই’ ছবির ৯৫ ভাগই যে ‘রোড’এর প্রতিচ্ছবি। সে ছবির কাহিনি লক্ষ্মী-অরবিন্দ-বাবু’কে নিয়ে। ‘চল পালাই’ এর কাহিনি সোনিয়া-রাজ-জুনায়েদকে নিয়ে। ‘রোড’ এর প্রথম দৃশ্যে নায়িকা দেরি করে ডেটিংয়ে আসেন। ‘চল পালাই’-এ নায়ক দেরি করে ডেটিংয়ে আসেন। আকাশ-পাতাল পার্থক্যও (!) অবশ্য আছে। হিন্দি ছবিতে নায়িকার বাবা পুলিশ অফিসার। তাই তিনি মেয়ের প্রেমিকের সাথে বিয়ে দিতে রাজি নন। পুলিশ অফিসার বাবার চরিত্রের জন্য রামগোপালের বাজেট ছিলনা। কিন্তু আমাদের ‘চল পালাই’-এ নায়িকার জলজ্যন্ত বাবা আছেন। শিল্পপতির চরিত্রে এ ছবিতে সাদেক বাচ্চু অভিনয় করেছেন। বাড়তি পাওনা হিসেবে রয়েছেন মা রেবেকা। হিন্দি ছবিতে নায়ক ৪৯ বার বলেন, ‘আমি এখন কি করবো’? নায়িকা নায়ককে ৫৬৫৬ বার বলেন, ‘রাগ করলে তোমাকে অনেক সুন্দর দেখায়’। আর ‘চল পালাই’-এ নায়ক নায়িকাকে ৪৮৭৩ বার বলেন ‘আই লাভ ইউ’, ২১২৬ বার বলেন ‘চলো পালিয়ে যাই’। হিন্দি ছবিতে সংলাপের প্রয়োজনে পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালির নাম এসেছিল। ‘চল পালাই’-এ এসেছে দেবাশীষ বিশ্বাসের নাম। হিন্দি ছবিতে হুট করে আইটেম গান করতে আসেন কোয়েন মিত্র, এখানে নায়লা নাঈম। সব দৃশ্য টুকলিফাই হলেও প্রেক্ষাগৃহের দৃশ্য এবং ট্রাক চালিয়ে সাইকো চরিত্রের গাড়ির পেছনটা দুমড়ে মুচড়ে ফেলার দৃশ্য ধারণ করতে পারেননি পরিচালক। আমাদের বাজেট যে মাত্র ৪০ লাখ টাকা। তবে একজন সমালোচক হিসেবে নয়, আমজনতা হিসেবে আমি মনে করি, ‘চল পালাই’ ছবির মূল সমস্যা বাজেটে নয়, গল্প বলায়। হিন্দি ছবির বঙ্গানুবাদ করতে গিয়ে অসংবেদনশীল হতে হয়েছে প্রতিটি চরিত্রকে। বিচ্ছিন্ন মুহূর্তগুলো এক হয়ে মালা গাঁথা হয়নি, সুতো ছিঁড়ে গেছে বার বার।

ছবির শুরুতে রাজ (শিপন) স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে জানতে চান, নীলগিরির রাস্তাটা কোথায়? পরবর্তীতে জুনায়েদকে (শাহরিয়াজ) রাজই বলেন, আজ আর সাজেক ভ্যালি যাওয়া হবে না, কারণ লোকেশন পরিবর্তন করেছেন তারা। সাজেক ভ্যালিতে নীলগিরি আছে কিনা, আমার জানা নেই। অবশ্য পরবর্তীতে আবার সবাই মিলে বান্দরবানেই গিয়েছেন। এছাড়া গাড়ির ভেতর অবস্থান করার সময় তারা এই পৃথিবীতে ছিলেন নাকি অন্য কোনো গ্রহে, নিশ্চিত নই। ছবির অন্যতম দুর্বল দিক হলো কম্পিউটার গ্রাফিক্স (সিজি)। ক্রোমাতে ধারণ করে এ ছবির ভ্রমণের দৃশ্যগুলো এতটাই অবাস্তবভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, দেখে দর্শক হিসেবে খুব অসহায় লাগছিল। দর্শকদের এতটা বোকা ভাবা বোধ হয় ঠিক নয়। সোনিয়া (তমা মির্জা) যখন চালকের আসনে, তখন গাড়ি নড়ছে। কিন্তু চলছে না। শাহরিয়াজ তমাকে এক পর্যায়ে জানান, তিনি ড্রাইভিং করতে জানেন না। পরের দৃশ্যেই শাহরিয়াজ চালকের আসনে। দুর্বল হোমসের (চিকন আলী) কাছে শাহরিয়াজ যান গাড়ির পুরনো নেম প্লেটের খোঁজে। প্রকৃতি জানান দিচ্ছিল, সময়টি দিনের বেলা। কিন্তু তার আগের দৃশ্যই ছিল সন্ধ্যে বেলা শাহরিয়াজ তমাকে বলছেন, তিনি গাড়ির নেমপ্লেট বদল করবেন। উৎসুক মন জানতে চায়, এর মাঝে সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত ওদের জীবনে কি কি হলো, দুজন একসঙ্গে ছিলেনও বা কোথায়? পুরো ছবিতে নায়ক-নায়িকাকে বিরক্ত করা প্রতিনায়ক যখন শেষ দিকে সুযোগ পেয়েও নায়িকার ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলেননি, সে সময় নায়িকার সংলাপ ছিল অনেকটা এরকম: আমি রাজকে ভালোবাসি। তারপরও কেন জানি মনের গহীনে তুমি কিসের আভা ছড়িয়ে দিয়েছো।

হিন্দি ছবিতে এই সংলাপগুলোই আরেকটু সংবেদনশীল ছিল। বঙ্গানুবাদ করতে গিয়ে আমরা নায়িকাকে পুরো চরিত্রহীন করে ফেললাম। কারণ যে প্রতিনায়ক নায়িকার হৃদয়ে আভা ছড়িয়ে দিয়েছে, তাকেই আবার পরের দৃশ্যে নায়কের উপস্থিতিতে নায়িকা পাথর দিয়ে মাথা ফাটান। এখানেও নতুন প্রশ্ন জাগে, যে প্রতিনায়ক পুরো ছবিতে নায়ক-নায়িকার জীবন দুর্বিষহ করে ফেলেন, ছেলেখেলার মত একের পর এক হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠেন, সে কিনা সামান্য পাথরের আঘাতে লুটিয়ে পড়ে হার স্বীকার করে নিলেন? ‘প্রেমিকা ছিনতাই’ ছবিতে রুবেলের মৃত্যু হয়। এখানে প্রতিনায়কের কৈ মাছের প্রাণ। তাকে বেঁচে থাকতে হবে সিকুয়েলের জন্য। নায়িকাকে সেরকমই আভাস দেন তিনি: ‘যাও যাও। পালাও। কিন্তু পরেরবার আমি তোমাকে নিয়ে পালাবো।’ পলায়নবিদ্যাকে আপন করে নেয়া এই প্রতিনায়কই অবশ্য এক দিন আগে নায়িকাকে বলেছিলেন, ‘তোমার নায়ক এত ভীরু ও কাপুরুষ কেন? আমি হলে কখনো পালাতাম না। তোমার বাবার সামনে বুক চিতিয়ে তোমাকে চাইতাম।’ যদি তাই হয় শেষ পর্যায়ে এসে কি মনে করে পালাবার কথা বললেন তিনি? ছবির নাম ‘চল পালাই’। ভারতের বাংলা ছবিতে নায়ক-নায়িকাকে হরহামেশাই ‘তুই তুকারি’ করতে দেখি। কিন্তু ‘চল পালাই’-এ ওরা কেউই কাউকে একটিবারের জন্যও ‘তুই তুকারি’ করেন না। ‘তুমি’ সম্বোধন করেন। ছবির নাম সে হিসেবে ‘চলো পালাই’ হতে পারতো।

পরিচালক দেবাশীষ বিশ্বাসের কাছে ব্যক্তিগতভাবে আমার কিছু অভিমানের জায়গা তৈরি হয়েছে। ১৬ বছর আগে ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’-এর মত ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয় ছবি যিনি উপহার দিয়েছেন, তিনি কেন বার বার নকল কাহিনী নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন নিন্দুকদের কথা বলবার সুযোগ করে দেন? যে মানুষটি তৎক্ষণাৎ হাসাতে পারেন, কথার ঝুলি নিয়ে যে কোনো মঞ্চে আলো ছড়াতে পারেন, ক্যামেরার সামনে অবলীলায় অভিনয়ও করতে পারেন, আমার বিশ্বাস তিনি চাইলে যে কোনো মৌলিক গল্পও নির্বাচন করার ক্ষমতা রাখেন। বিদেশী গল্প নিজের মত দেশীয়করণ করে নির্মাণ করা মহা পাপ নয়। তবে জনপ্রিয় তারকা দেবাশীষ বিশ্বাসের কাছে আমার ব্যক্তিগত অনুরোধ, তার পরের ছবিটি যেন অন্তত মৌলিক কাহিনী নিয়ে নির্মিত হয়। ৩ কোটি রূপী বাজেটের ‘রোড’, যে ছবি কিনা কাহিনীর পাশাপাশি আবহ সংগীত, সম্পাদনা, শব্দ গ্রহণ, চিত্রগ্রহণ, রূপসজ্জা, আলোক সম্পাতের কারণে আরো বেশি হৃদয়গ্রাহী হয়েছিল, সে ছবি কম খরচে (৪০ লক্ষ টাকা) নির্মাণ করতে গেলে একটু বেসামাল তো হতেই হবে। সব বিভাগে ছাড় দেয়া হয়েছে বলেই হয়তো দর্শক-ও প্রতিটি চরিত্রের আবেগকে ছাড় দিয়েছেন। প্রমাণ: এ ছবির কারো অভিনয়ই মন ছুঁয়ে যেতে পারেনি।

চিত্রনায়ক শিপনকে এর আগে দেশা, ইউটার্ন, বিগ ব্রাদার ছবিগুলোতে দেখেছি। শিপন সুদর্শন, সন্দেহ নেই। ‘চল পালাই’ ছবিতে তাকে দেখতেও আগের চেয়ে অনেক বেশি নায়কোচিত মনে হয়েছে। অভিব্যক্তি আগের চেয়ে ভালো। তবে এ ছবিতে শিপন ডাবিং না করায় তার প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ ছিল ৫০ ভাগ। তাছাড়া এক পর্যায়ে শিপনের ‘রাজ’ চরিত্রটি গল্প থেকে হারিয়ে গিয়েছিল। অরবিন্দ ‘বিবেক ওবেরয়’-এর উন্মাদনা, অসহায়ত্ব শিপনের ব্যক্তিত্বে পুরোপুরি পাইনি। এ ক্ষেত্রে চিত্রনাট্য অনেকাংশে দায়ী। একই কারণে তমা মির্জাকেও অভিযুক্ত করা যায়। যে সোনিয়াকে (তমা) জুনায়েদ অপহরণ করেছে, প্রেমিকের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে, সেই অপহরণকারীকেই কিনা তমা আহ্লাদিত হয়ে কথায় কথায় নাম ধরে বলেন-‘অ্যই জুনায়েদ! শুনো!’ এই দৃশ্যগুলোতে নায়িকার ব্যক্তিত্ব কিছুটা হলেও আঘাতপ্রাপ্ত হয়। মূলধারার বানিজ্যিক ছবির নায়িকা সবসময় সবরকম পরিস্থিতিতে সেজেগুজে থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ‘চল পালাই’ ছবিতে অপহৃত হবার পরও সর্বাবস্থায় তমা যেভাবে চড়া লিপস্টিক, চড়া মেকআপ, ‘পারফেক্ট’ চুলের স্টাইল দিয়ে নিজেকে সুসজ্জিত করে রাখেন, মেনে নেয়া যায়না। এই অবস্থায় মেকআপ কতটা বাস্তবসম্মত, অথচ গ্ল্যামারাস হওয়া উচিত, এ বিষয়টি অনুধাবন করার জন্য রূপসজ্জাকরের ‘রোড’ ছবিটি দেখা উচিত ছিল। নায়িকাসুলভ যে অভিনয় দরকার তমা মির্জা তা বেশ ভালোই জানেন। এ ছবিতে তিনি তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন, বোঝা গেছে। তবে চরিত্রের ধারাবাহিকতা না থাকায় বার বার দর্শকরা দ্বিধান্বিত হয়েছেন।

লেখকের সঙ্গে ‘চল পালাই’ তারকারা

 

যেমনটি দ্বিধান্বিত হয়েছেন শাহরিয়াজ অভিনীত ‘জুনায়েদ’ চরিত্রটি দেখে। বিদেশী ছবিগুলোতে এ চরিত্রটি ছিল একজন মানসিক বিকারগ্রস্ত যুবকের। কোনো কিছুই সমীকরণে কিংবা যুক্তিতে ফেলে তাকে মাপা যাবে না। কিন্তু ‘চল পালাই’-এর জুনায়েদের কথা বলার ধরণ দেখে কখনো মানসিক বিকারগ্রস্ত মনে হয়নি। এমনকি ছবির শেষ দিকে তার কল্পনায় প্রেমের গানও দেখানো হয়েছে। আমাদের চিত্রনাট্যকার শাহরিয়াজের চরিত্রটিই ঠিকঠাক মত ধরতে পারেননি। তিনি আসলে কে, তার জীবনের লক্ষ্য কি, তিনি আসলে কি চান-কোনো কিছুই স্পষ্ট হয়নি। শাহরিয়াজ তার সাধ্যমত চেষ্টা করে গেছেন এবং আমার মতে, সবার মধ্যে তিনিই তুলনামূলক ভালো কাজ করেছেন। তারপরও এই তরুণ অভিনেতার কাছ থেকে আমার প্রত্যাশা আরেকটু বেশি। কারণ আমি মনে করি, ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার, উচ্চারণে-চলনে বলনে অনেক জনপ্রিয় নায়কের থেকেও এগিয়ে থাকা শাহরিয়াজ আরো ভালো কিছু দেখাতে সক্ষম। যথাযথ গ্রুমিং এবং চরিত্র পেলে শাহরিয়াজ যে কোনো ছবিতে জ্বলে উঠবে, নিশ্চিত। সাদেক বাচ্চু-রেবেকার চরিত্র এ ছবির বাহুল্য। কোনো প্রয়োজন ছিলনা। নির্মাতাও বোধ করি, এক পর্যায়ে সেটি বুঝতে পেরেছেন। যে কারণে শেষ পর্যন্ত তাদের পরিণতিও দেখানো হয়নি। চিকন আলী একটি মাত্র দৃশ্যে আনন্দ দিয়েছেন। বড় দা মিঠু, জাদু আজাদ, শামীম উল্লেখ করার মত কোনো অভিনয় দেখাতে পারেননি। শিমুল খানের চরিত্রটির শুরুতে সম্ভাবনা থাকলেও অল্প সময়েই ঝরে গেছেন। তবে শিমুল খান তার চরিত্রে আন্তরিক ছিলেন।

ছবিতে গান রয়েছে মাত্র ৩টি। ‘একটু করে একটু ছুঁই’ গান হিসেবে ভালো, তবে গলফ ক্লাবের টপশট থেকে নেয়া দৃশ্যগুলোতে মাঠে অনেক ময়লা দেখা গিয়েছে। শাহরিয়াজ-তমার গানটি ভালো, তবে এ গানে শাহরিয়াজের পোষাক ভালো লাগেনি। পোষাকের প্রতি তার আরেকটু ধ্যান দেয়া প্রয়োজন। তমাকে বেশ ভালো লেগেছে। আইটেম গানে নায়লা নাঈমের উপস্থিতি কোনো উত্তাপ ছড়াতে পারেনি। এর কারণ কষ্টিপাথরের মত অভিব্যক্তি এবং পুতুলের মত নাচ। দুর্দান্ত ফিগারসর্বস্ব নায়লা নাঈমকে আরো জীবন্ত হতে হবে পরবর্তী কাজগুলোতে। সব মিলিয়ে বলা যায় ‘চল পালাই’ থেকে আমাদের প্রাপ্তি খুব বেশি কিছু নয়। তবে বিশ্বাস করুন, ভুল ধরতে আমি সিনেমা হলে যাই না। আমি বিনোদন পিপাসু আমজনতার প্রতিনিধিত্বকারী। কলম হাতে নিয়েছি বলেই হয়তো সমালোচনা লিখতে গিয়ে ভালোর পাশাপাশি দু-চারটি মন্দ কথা বলি। তবে আমার উদ্দেশ্য একটিই, বাংলা ছবির পাশে থাকা। মোটা দাগের ভুলগুলো ধরিয়ে দিয়ে আমাদের আশার জায়গাগুলো নির্মাতাদের কাছে তুলে ধরা। এটা ঠিক, আমার দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সবার দৃষ্টিভঙ্গি সবসময় মিলবে না। তবে এতটুকু আশা করি, এ বছর বাংলা ছবির দর্শকরা নতুন করে আবার যে হলে যাবার অভ্যাস বাড়িয়ে দিয়েছে, চায়ের কাপ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেভাবে বাংলা ছবি নিয়ে নতুন করে আলোচনায় মুখর হয়েছে, তা যেন দিন দিন আরো বৃদ্ধি পায়। আঁধার কেটে যাবে একদিন। আপাতত চলুন, আশার আলো জ্বালিয়ে রাখি। বিজয় একদিন আমাদের হবেই।

  • লেখকের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে
Loading...

২০১১-২০১৭ | টক্কিজবিডি ডটকম

Design by: Web Q BD | Development by: webnewsdesign.com